হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতের মধ্যপ্রদেশ রাজ্যের হাইকোর্টের দেওয়া এই রায়ের ফলে আলেম, ইসলামি প্রতিষ্ঠান ও আইনকর্মীদের মধ্যে প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। এই রায় অনুযায়ী, ধর শহরের চারশো বছরের পুরনো 'কামাল মাওলা' মসজিদটিকে মন্দির হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যা ব্যাপক উদ্বেগ ও বিক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। সমালোচকদের মতে, এই রায় ঐতিহাসিক নথি, সরকারি রেকর্ড এবং উপাসনাস্থল সংক্রান্ত আইনের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
ভারতের আলেম ও খতীব পরিষদের সভাপতি হুজ্জাতুল ইসলাম আলী হায়দার ফেরেশতে এই রায়ের প্রতিক্রিয়ায় এক বিবৃতিতে বলেছেন: যেকোনো ধর্মের পবিত্র স্থান ও উপাসনালয় জোরপূর্বক দখল করা মানবিক নীতির পরিপন্থী এবং সুস্পষ্ট জুলুমের নিদর্শন। মুসলমানদের অধিকার আছে যা তারা জুলুম বলে মনে করে, তার বিরুদ্ধে আইনি ও শান্তিপূর্ণ উপায়ে প্রতিবাদ জানানোর।
তিনি আরও জানান: প্রতিবেদন অনুযায়ী, অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড ও কামাল মাওলা মসজিদ ব্যবস্থাপনা কমিটি ভারতের সুপ্রিম কোর্টে এই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানানোর জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুত করছে।
অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের এই রায়কে ভুল ও অন্যায় বলে বর্ণনা করেছে এবং এটি ঐতিহাসিক প্রমাণ, সরকারি নথি এমনকি ভারতের প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার পূর্বের অবস্থানের বিপরীত বলে উল্লেখ করেছে।
বোর্ডের মুখপাত্র ড. সৈয়দ কাসিম রসূল ইলিয়াস এক বিবৃতিতে জানান যে, প্রদত্ত রায়টি ঐতিহাসিক নথি, অতীতের রাজস্ব রেকর্ড, ঔপনিবেশিক আমলের সরকারি প্রতিবেদন এবং এই মসজিদে মুসলমানদের কয়েক শতাব্দীর ইবাদতের প্রমাণের সাথে সাংঘর্ষিক।
তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন যে, উক্ত রায়টি '১৯৯১ সালের উপাসনাস্থল আইন' এর চেতনার সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ।
এই বিক্ষোভের ঢেউ শুরু হয় যখন ইন্দোর হাইকোর্ট 'কামাল মাওলা মসজিদ' বিতর্কিত মামলায় চূড়ান্ত রায় প্রদান করে এবং এই মসজিদটি হিন্দুদের বলে ঘোষণা করে।
হিন্দু পক্ষ দাবি করে যে এই স্থাপনাটি একাদশ শতাব্দীর এবং এটি 'বাগদেবী' বা 'সরস্বতী' মন্দির ছিল। অপরদিকে, মুসলিম পক্ষ কামাল মাওলা মসজিদের কয়েকশ বছরের প্রাচীনত্ব এবং এই স্থানে মুসলমানদের ইবাদতের ধারাবাহিকতার ওপর জোর দেয়।
উল্লেখ্য, প্রায় চারশো বছর ধরে 'কামাল মাওলা মসজিদ' মুসলমানদের ইবাদত ও উপাসনার স্থান হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে।
আপনার কমেন্ট